শরতের সাদা মেঘের মতো ফুটেছে কাশফুল

শরৎ এলেই প্রকৃতির ক্যানভাসে যেন সাদা তুলির আঁচড় পড়ে। সবুজের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়ায় কাশফুল।

হালকা বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশ যেন শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবন, যানজট আর কংক্রিটের ভিড়ের মাঝেও তাই কাশফুলের শুভ্রতা এনে দিচ্ছে খানিকটা স্বস্তি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন খোলা জায়গা, নদীর তীর ও জলাশয়ের পাশে দেখা মিলছে কাশফুলের। হালকা বাতাসে দুলছে সাদা ফুলগুলো, তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।

ভোরের আলোয় শিশিরভেজা কাশফুল কিংবা বিকেলের নরম রোদে দুলতে থাকা কাশবন-প্রকৃতির দুটো ভিন্ন রূপই যেন ধরা দিচ্ছে এই ঋতুতে।kashphul

এই সৌন্দর্যের টানে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন কাশবনের কাছে।

কেউ মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন শরতের শুভ্রতা, কেউ আবার প্রিয়জন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর ১০০ ফুট সড়কের নাওড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করেছেন অনেকেই। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও কাশফুল ঘিরে দেখা গেছে বেশ আগ্রহ।

শাহাদাত নামে এক দর্শনার্থী স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসেছেন নাওড়া ব্রিজ এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের ছবি মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন তিনি। এ সময় শাহাদাত বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। বাতাসের সঙ্গে কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য দেখতে তার মতো অনেকেই এখানে ছুটে এসেছেন।

রফিকুল ইসলাম বাংলা নিউজকে বলেন, ‘আমার বাড়ি রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায়। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে কাশবনের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছি। অনেক ভালো লাগছে। আমরা একে অপরের ছবি তুলে দিচ্ছি, এভাবেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। সারা বছর তো কাশফুলের সৌন্দর্য থাকে না। এ সময়টা ছবি তোলার উপযুক্ত সময়, তাই এখানে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার অন্যবারের তুলনায় কাশফুল অনেক কম ফুটেছে। প্রতিবছর বিভিন্ন জায়গায় কাশফুল ফুটতে দেখি। কিন্তু এবার দুই-একটি জায়গায় ফুল ফুটেছে। এ কারণে মানুষ এসব জায়গায় ভিড় করছে।’

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কাশফুল শুধু শরতের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সাদা কাশের দোলা, নীল আকাশ আর মেঘের ভেলা-সব মিলিয়ে শরৎ যেন বাংলার প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে।baby

তবে নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে অনেক জায়গায় কাশবন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে খোলা জায়গা ও জলাশয়ের পাশে থাকা উদ্ভিদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে প্রকৃতির এমন দৃশ্য মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয় বলে জানান দর্শনার্থীরা। তাদের মতে, শহরে খোলা জায়গা ও সবুজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় কাশফুলের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ এখন আর আগের মতো সহজ নয়। তাই শরতের এই অল্প সময়ের শুভ্রতাকে কাছে থেকে দেখার আনন্দও তাদের কাছে বিশেষ কিছু।

শহরের কংক্রিটের দেয়ালের ফাঁক গলে ফুটে থাকা কাশফুল যেন মনে করিয়ে দেয়-প্রকৃতি এখনো তার নিজস্ব ভাষায় ঋতুর খবর জানায়। শুধু একটু থেমে তাকালেই সেই সাদা মায়ায় চোখ জুড়িয়ে যায়, মনও হয়ে ওঠে কিছুটা শান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *