Header Border

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৭.৯৬°সে

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার না করতে প্রজ্ঞাপন জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

Spread the love

পাপড়িনিউজ:: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে পক্ষে থেকে ভারত থেকে ৩৫ লাখ ট্যাবলেট কিনেছিলেন। তড়িঘড়ি ভারত ট্যাবলেটগুলো আমেরিকায় পৌঁছে দিয়েছেও ১২ এপ্রিল। কিন্ত অবশেষে শুক্রবার ওষুধটি ব্যবহার না করার জন্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বা ক্লোরোকুইন ব্যবহারের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জীবনের ওপর হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। খবরে বলা হয়, কভিড-১৯ রোগ থেকে সেরে উঠার জন্য এই ওষুধ গ্রহণ করলে রোগীদের মধ্যে “গুরুতর হৃৎযন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা ও মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে এফডিএ। এফডিএ কমিশনার স্টিফেন এম. হান এক বিবৃতিতে জানান, “কভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এই ওষুধগুলো কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নির্ণয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অব্যাহত আছে। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যেগুলো বিবেচনা করা উচিৎ। যেসব স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী বিশেষ বিশেষ রোগীকে এই ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদেরকে আমরা আহ্বান জানাই যেন ওই রোগিদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। তাহলেই ওই ঝুঁকি কমতে সহায়ক হবে।”
এফডিএ’র এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন করোনার চিকিৎসায় এই ওষুধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই ওষুধের প্রচারণা চালিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, এই রোগের চিকিৎসায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই ওষুধের।
মেডিকেল তত্ত্বাবধান ব্যতীত এই ওষুধ গ্রহণ করার বিষয়ে এফডিএ’র এই সতর্কতা জারি হলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হাইড্রোক্লোরোকুইন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জল্পনাকল্পনার পর। এ নিয়ে এত বেশি আলোচনা হচ্ছিল যে, টুইটারের মতো কিছু মাধ্যম হাইড্রোক্লোরোকুইন সংক্রান্ত অপ-তথ্য তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
শুধু এফডিএ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থাও কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাইড্রোক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করেছে। দেশটির সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সম্প্রতি তাদের তথ্য পাতা হালনাগাদ করে এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ প্রত্যাহার করেছে। সংস্থাটি লিখেছে, এখন পর্যন্ত এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ মাসের শুরুর দিকে মায়ো ক্লিনিকের একজন কার্ডিওলোজিস্ট জানান, এই ওষুধের এমন প্রচারণার ফলে সম্ভাব্য প্রাণঘাতিমূলক বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তার এই বক্তব্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে, যিনি তার প্রতিদিনের প্রেস ব্রিফিং-এ বার বার হাইড্রোক্লোরোকুইন ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ওষুধটির ব্যবহারে কিছু রোগী সুস্থ হয়েছেন এবং কিছু হন নি। যে কারণে আমেরিকার ড্রাগ প্রশাসন অনুমোদন দেয় নি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ওষুধটির আগের নীরিক্ষা সীমিত। উচ্চ পর্যায়ের স্টাডি দরকার। তাছাড়া ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-র ফ্যাক্টচেকার এ্যানালিসিস কলামে ওষুধটির সফলতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। মূলত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার হয় বেশি। এই ওষুধ মূলত মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে ব্যাপক নিষ্ক্রিয় করে। ফলে ইমিউন সিস্টেম আত্মঘাতি পদক্ষেপ নিতে পারে না।

পাপড়ি/কেএ

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

করোনায় আক্রান্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত
দ্বিতীয় মেয়াদে জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নিলেন গুতেরেস
এরদোগানের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠক
বোকো হারামের শীর্ষ নেতার ‘আত্মহত্যা’
স্বামীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য সাপের পোশাক পরলেন স্ত্রী, উল্টো পা ভে’ঙ্গে দিল স্বামী
যু’দ্ধের প্রস্তুতি নিতে সহস্রাধিক নতুন ধরনের রকেট নির্মাণ শুরু করেছে হামাস

আরও খবর

Design & Developed BY PAPRHI-iT